Tuesday, November 10, 2020

পাঠ ১- প্রাথমিক সংস্কৃত পরিচয়

বর্ণ - ভাষা বা সাহিত্যের মূল উপাদান হল বর্ণ। বর্ণের সমষ্টিকে বলে বর্ণমালা। বর্ণসমূহ দ্বিধা বিভক্ত-
(ক) স্বরবর্ণ।
(খ) ব্যঞ্জনবর্ণ।

(ক) স্বরবর্ণ- 'স্বয়ং রাজন্তে' ইতি 'স্বরাঃ'। অর্থাৎ যে বর্ণগুলির উচ্চারণ করতে অন্য বর্ণের সাহায্যের প্রয়োজন হয় না, সেগুলিকে স্বরবর্ণ বলে। স্বরবর্ণ ১৪ টি, যথা-অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, ৠ , ঌ, , এ, ঐ, ও, ঔ।  স্বরবর্ণ তিন প্রকার, যথা-
১) হ্রস্বস্বর- অ,ই ,উ, ঋ, ঌ। হ্রস্বস্বরকে 'লঘুস্বর'-ও বলা হয়।
২) দীর্ঘস্বর-হ্রস্বস্বরের দীর্ঘ অবস্থা হল দীর্ঘস্বর,যথা- আ, ঈ, ঊ, ৠ, এ, ঐ, ও, ঔ। দীর্ঘস্বরকে 'গুরুস্বর'-ও বলা হয়।
৩) প্লুতস্বর- দীর্ঘস্বর আরও দীর্ঘতররূপে উচ্চারণ করলে প্লুত হয়। প্লুতস্বর আটটি, যথা- আ৩, ঈ৩, ঊ৩, ৠ৩, এ৩, ঐ৩, ও৩, ঔ৩। সাধারণতঃ দীর্ঘস্বরের উত্তর ৩ সংখ্যা লিখে সেই বর্ণের প্লুতত্ব বোঝানো হয়।

(খ) ব্যঞ্জনবর্ণ- যে বর্ণগুলি স্বরবর্ণের সাহায্য ছাড়া উচ্চারিত হতে পারে না, সেগুলিকে ব্যঞ্জনবর্ণ বলে। যেমন- শুদ্ধ 'ক্' বর্ণকে আমরা উচ্চারণ করতে পারি না। কিন্তু 'ক্+অ' = 'ক'- এই স্বরবর্ণ সমন্বিত(অ) ব্যঞ্জনকে(ক) আমরা উচ্চারণ করতে পারি। ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৫ টি। যথা-    

 ক-বর্গ

 ক্, খ্, গ্, ঘ্, ঙ্

 চ-বর্গ

 চ্, ছ্, জ্, ঝ্, ঞ্

 ট-বর্গ

 ট্, ঠ্, ড্, ঢ্, ণ্

 ত-বর্গ

 ত্, থ্, দ্, ধ্, ন্

 প-বর্গ

 প্, ফ্, ব্, ভ্, ম্

 অন্তঃস্থ বর্ণ

 য্, র্, ল্, ব্

 উষ্ম বর্ণ

 শ্, ষ্, স্, হ্

অযোগবাহ বর্ণ (যে বর্ণগুলি ভাষা ও ব্যাকরণের কেবল প্রয়োগ নির্বাহ করে)


 ং, ঃ


অক্ষর- ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে যুক্ত, অনুস্বার যুক্ত অথবা শুদ্ধ স্বরকেই অক্ষর বলে। "সব্যঞ্জনঃ সানুস্বারঃ শুদ্ধো বাপি স্বরোঽক্ষরম্"। 

সংস্কৃতে 'বর্ণ' ও 'অক্ষর' পর্যায় (Synonym) শব্দ রূপে ব্যবহৃত হলেও 'বর্ণ' বলতে যেমন স্বর (Vowel) ও ব্যঞ্জন (Consonant) উভয়কেই বোঝায়; 'অক্ষর' বলতে কিন্তু স্বরকেই বোঝায়। যেমন-'দুর্গা' শব্দটিতে পাঁচটি বর্ণ(Letters) আছে-দ্+উ+র্+গ্+আ। কিন্তু অক্ষর বা স্বর(Vowels) মাত্র দুটি- and । 

অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, ৠ , ঌ, ৡ- এই দশটিকে 'সমানাক্ষর' এবং এ, ঐ, ও, ঔ এই চারটিকে 'সন্ধ্যক্ষর' বলে

নীচের ছকে দেবনাগরী লিপিতে স্বর  ও ব্যঞ্জনবর্ণগুলির পরিচয় দেওয়া হল:- 

স্বরবর্ণ

 अ (অ)

  आ   (আ)

  इ

(ই)

 ई 

(ঈ) 

 उ 

(উ)

 ऊ

(ঊ) 

 ऋ

(ঋ) 

 ऋृ

()

 लृ

 ()

 लृृ

(ৡ) 


 ए 

(এ)

 ऐ

(ঐ) 

 ओ 

(ও)

 औ 

(ঔ)



 ব্যঞ্জনবর্ণ

 क

(ক)

 ख

(খ) 

 ग

(গ) 

 घ

(ঘ) 

 ङ

(ঙ) 

 च 

(চ)

 छ 

(ছ)

 ज

(জ)

 झ

(ঝ) 

 ञ

(ঞ) 

 ट

(ট) 

(ঠ) 

ड 

(ড)

(ঢ) 

ण 

(ণ)

 त 

(ত)

 थ

(থ) 

 द 

(দ)

 ध 

(ধ)

 न

(ন) 

 प

(প) 

 फ

(ফ)

 ब

(ব)

 भ

(ভ)

 म

(ম)

 य

(য)

 र

(র)

(ল) 

 व

(ব)

 श

(শ) 

 ष

 (ষ)

 स

 (স)

 ह

 (হ)

  .

( ং)

 ঃ 

( ঃ)


শব্দ- বর্ণের লিখিত রূপকে শব্দ বলা হয়। অর্থযুক্ত ধ্বনিকেও শব্দ বলা হয়। বর্ণাত্মক ও ধ্বন্যাত্মক ভেদে শব্দ দ্বিবিধ। 

প্রকৃতি-  মূল শব্দকে প্রকৃতি বলে। প্রকৃতি দুরকমের, যথা-
১) প্রাতিপদিক- অর্থবিশিষ্ট শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়, যেমন-নর, ফল, মুনি ইত্যাদি।
২) ধাতু- ক্রিয়াপদের মূলকে ধাতু বলে, যেমন-ভূ, গম্ ইত্যাদি।

প্রত্যয়- প্রাতিপদিক ও ধাতুর পরে যা যুক্ত হয় তাকে প্রত্যয় বলে। প্রত্যয় পাঁচ প্রকার, যথা-
১) বিভক্তি- যার দ্বারা সংখ্যা, কারক ও সম্বন্ধের বোধ হয়, তাকে বিভক্তি বলা হয়- "সংখ্যাকারকাদিবোধয়িত্রী বিভক্তিঃ"। সংস্কৃতে প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতু্র্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী -এই সাতটি বিভক্তি আছে- "বিভক্তয়ঃ সপ্ত"। সাধারণতঃ কর্তায় প্রথমা, কর্মে দ্বিতীয়া, করণে তৃতীয়া, সম্প্রদানে চতুর্থী, অপাদানে পঞ্চমী, সম্বন্ধ বা শেষে ষষ্ঠী এবং অধিকরণে সপ্তমী বিভক্তি হয়। 
প্রতি বিভক্তির তিনটি করে বচন হয়। বচন দ্বারা সংখ্যার জ্ঞান হয়, যেমন- একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচন।
ক) একবচনে এক সংখ্যা, দ্বিবচনে দুই সংখ্যা বোঝায়।
খ) বহুবচনে তিন থেকে বাকী সমস্ত সংখ্যার বোধ হয়।

২) কৃৎপ্রত্যয়- ধাতুর পরে যে সকল প্রত্যয় বসে তাদেরকে কৃৎপ্রত্যয় বলে, যেমন-তব্য, অনীয়র্, ণ্যৎ, যৎ ইত্যাদি।
৩) তদ্ধিতপ্রত্যয়- শব্দের পরে যে সকল প্রত্যয় বসে তাদেরকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে, যেমন- ইঞ্, ঢক্, অঞ্ ইত্যাদি।
৪) স্ত্রীপ্রত্যয়- টাপ্, ডাপ্, চাপ্, ঙীপ্, ঙীষ্, ঙীন্ এবং ঊঙ্ -এই সাতটি প্রত্যয়কে স্ত্রীপ্রত্যয় বলে। সংস্কৃতে  এই সাতটি স্ত্রীপ্রত্যয় বিভিন্ন অর্থে প্রযুক্ত হয়।
৫) ধাত্ববয়ব- তি, তস্-প্রভৃতি বিভক্তি পরে থাকলে যে সকল প্রত্যয় ভূ-প্রভৃতি ধাতুর অঙ্গরূপে প্রযুক্ত হয়, তাদেরকে ধাত্ববয়ব বলে। যেমন- 'ভবতি' -এই রূপ সিদ্ধির জন্য 'তি'-বিভক্তি পরে থাকলে 'ভূ'-ধাতুর উত্তর 'শপ্'-বিকরণের আগমে 'ভূ শপ্ তি' অবস্থায় গুণাদিকার্যে ভবতি হয়। এখানে 'শপ্'-প্রত্যয় হল ধাত্ববয়ব।

'সু' প্রভৃতি ২১ টি শব্দ বিভক্তির নাম 'সুপ্'। প্রথমার একবচনে সু ও সপ্তমীর বহুবচনের সুপ্ বিভক্তির অন্তিম বর্ণ প্-কার-কে নিয়ে নির্মিত হয় এই সুপ্ বিভক্তি । সুপ্ বিভক্তিগুলি প্রথমা থেকে সপ্তমী-এই সাত ভাগে বিভক্ত এবং এদের প্রত্যেকটির আবার একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচন-এই তিন ভেদ। ফলে মোট (৭X৩) একুশটি সুপ্ বিভক্তি।

 সুপ্-বিভক্তির আকৃতি

 বিভক্তি

 একবচন

দ্বিবচন 

বহুবচন 

প্রথমা

 সু

 ঔ

জস্ 

দ্বিতীয়া

 অম্

 ঔট্

 শস্

তৃতীয়া

 টা

 ভ্যাম্

 ভিস্

চতুর্থী

 ঙে 

ভ্যাম্ 

 ভ্যস্

পঞ্চমী

 ঙসি 

 ভ্যাম্

 ভ্যস্

ষষ্ঠী

 ঙস্

 ওস্

 আম্

সপ্তমী

 ঙি

 ওস্

 সুপ্

* অর্থবোধক শব্দের শেষে সুপ্ অর্থাৎ সু, ঔ, জস্ যুক্ত হলে তাকে সুবন্ত পদ বা নাম বলে।


তি, তস্ প্রভৃতি ১৮০ টি ধাতু বিভক্তির নাম 'তিঙ্'। পাণিনি মতে, "তিপ্, তস্, ঝি, সিপ্, থস্, থ, মিপ্, বস্, মস্, ত, আতাম্, ঝ, থাস্, আথাম্, ধ্বম্, ইট্, বহিঙ্, মহিঙ্"-এই ১৮টি বিভক্তি-ই তিঙ্-বিভক্তি। 'তিপ্'-এর আদি 'তি' ও আত্মনেপদের শেষ বিভক্তি 'মহিঙ্'-এর অন্ত্য 'ঙ'-পর্যন্ত সবগুলি প্রত্যয়কে প্রত্যাহার করে 'তিঙ্' বলে।

তিঙ্ বিভক্তির আকৃতি

পরস্মৈপদ

 

আত্মনেপদ

 

প্রথম পুরুষ

মধ্যম পুরুষ

উত্তম পুরুষ

 

প্রথম পুরুষ

মধ্যম পুরুষ

উত্তম পুরুষ

লট্(বর্তমান কাল)-Present Tense

একবচন

তি

সি

মিপ্

 

তে

সে

দ্বিবচন

তস্

থস্

বস্

 

আতে

আথে

বহে

বহুবচন

অন্তি

মস্

 

অন্তে

ধ্বে

মহে

লোট্(আদেশ, অনুজ্ঞা)-Imperative

একবচন

তু

হি

আনি

 

তাম্

স্ব

দ্বিবচন

তাম্

তম্

আব

 

আতাম্

আথাম্

আবহৈ

বহুবচন

অন্তু

আম

 

অন্তাম্

ধ্বম্

আমহৈ

লঙ্(অতীত কাল)-Past Tense

একবচন

অম্

 

থাস্

দ্বিবচন

তাম্

তম্

 

আতাম্

আথাম্

বহি

বহুবচন

অন্

 

অন্ত

ধ্বম্

মহি

বিধিলিঙ্ (বিধি, ঔচিত্য, নিমন্ত্রণ প্রভৃতি ) Potentival

একবচন

যাৎ

যাস্

যাম্

 

ঈত

ঈথাস্

ঈয়

দ্বিবচন

যাতাম্

যাতম্

যাব

 

ঈয়াতাম্

ঈয়াথাম্

ঈবহি

বহুবচন

যুস্

যাত

যাম

 

ঈরন্

ঈধ্বম্

ঈমহি

লৃট্(ভবিষ্যৎ কাল)-Future Tense

একবচন

স্যতি

স্যসি

স্যামি

 

স্যতে

স্যসে

স্যে

দ্বিবচন

স্যতস্

স্যথস্

স্যাবস্

 

স্যেতে

স্যেথে

স্যাবহে

বহুবচন

স্যন্তি

স্যথ

স্যামস্

 

স্যন্তে

স্যধ্বে

স্যামহে

লুঙ্(সাধারণ ও অদ্যতন অতীত)-Aorist

একবচন

দ্

স্

অম্

 

থাস্

দ্বিবচন

তাম্

তম্

 

আতাম্

আথাম্

বহি

বহুবচন

অন্

 

অন্ত

ধ্বম্

মহি

লিট্(পরোক্ষ অতীত)-Perfect

একবচন

অ (ণল্)

থ(থল্)

অ(ণল্)

 

সে

দ্বিবচন

অতুস্

অথুস্

 

আতে

আথে

বহে

বহুবচন

উস্

 

ইরে

ধ্বে

মহে

লৃঙ্(অনিষ্পত্তিতে, যদি অর্থে)Conditional, Subjunctive

একবচন

স্যাৎ

স্যস্

স্যম্

 

স্যত

স্যথাস্

স্যে

দ্বিবচন

স্যাতাম্

স্যতম্

স্যাব

 

স্যেতাম্

স্যেথাম্

স্যাবহি

বহুবচন

স্যন্

স্যত

স্যাম

 

স্যন্ত

স্যধ্বম্

স্যামহি

লুট্(শ্বস্তন ভবিষ্যৎ)-Periphrastic Future

একবচন

তা

তাসি

তাস্মি

 

তা

তাসে

তাহে

দ্বিবচন

তারৌ

তাস্থস্

তাস্বস্

 

তারৌ

তাসাথে

তাস্বহে

বহুবচন

তারস্

তাস্থ

তাস্মস্

 

তারস্

তাধ্বে

তাস্মহে

আশীর্লিঙ্(আশীর্বাদার্থে ভবিষ্যৎ)-Benedictive

একবচন

যাৎ

যাস্

যাসম্

 

সীষ্ট

সীষ্ঠাস্

সীয়

দ্বিবচন

যাস্তাম্

যাস্তম্

যাস্ব

 

সীয়াস্তাম্

সীয়াস্থাম্

সীবহি

বহুবচন

যাস্ত

যাস্ত

যাস্ম

 

সীরন্

সীধ্বন্

সীমহি

*ধাতুর উত্তর তি, তস্, অন্তি প্রভৃতি প্রত্যয় যোগ করে তিঙন্ত পদ বা ক্রিয়াপদ হয়। সংস্কৃত ভাষার ধাতুগুলির মধ্যে কতকগুলি কেবল পরস্মৈপদী, কতকগুলি কেবল আত্মনেপদী, আবার কতকগুলি উভয়পদী। উভয়পদী ধাতুর উত্তর আত্মার্থে আত্মনেপদ এবং পরার্থে পরস্মৈপদ হয়।


পদ- সুপ্ যুক্ত শব্দ ও তিঙ্ যুক্ত ধাতুর নাম পদ। "সুপ্তিঙন্তং পদম্"।   এই 'সুপ্' ও 'তিঙ্' যুক্ত হলে অর্থাৎ শব্দ বা ধাতুর অন্তে কোনো বিভক্তি যোগ করলে 'পদ' উৎপন্ন হয়। যেমন- 'রাম' একটি শব্দ। 'রাম' -শব্দে তৃতীয়ার একবচনে 'টা' বিভক্তি যোগ করলে 'রামেণ', সপ্তমীর বহুবচনে 'সু' বিভক্তি যোগ করলে  'রামেষু' হয়। 'ভূ' একটি ধাতু। ভূ-ধাতুতে 'লট্ তি' যোগ করলে 'ভবতি' হয়, আবার 'লৃট্ স্যতি' যোগ করলে হয় 'ভবিষ্যতি'। এই 'রামেণ',  'রামেষু', 'ভবতি', 'ভবিষ্যতি' হল এক একটি পদ।

শাস্ত্রে(সংস্কৃত ভাষায়) অপদ(যা পদ নয়) তা প্রয়োগ করতে নেই। "নাপদং(ন অপদম্) শাস্ত্রে প্রযুঞ্জীত"। সংস্কৃতে কিছু লেখার সময় পদের প্রয়োগ করতে হয়। শুধু গুণিন্, বিদ্বস্, ভূ, গম্ -এরূপ লেখা চলে না। যে কোনো বিভক্তি যোগ করে লিখতে হয়। 

এই পদ পাঁচপ্রকার, যথা-

১) বিশেষ্য- যার সম্বন্ধে বিশেষ ভাবে কিছু বলা হয়, তাকে বিশেষ্য বলে। যেমন-দেবদত্তঃ, সূূর্যঃ, চন্দ্রঃ, গমনম্, শয়নম্ ইত্যাদি।
২) বিশেষণ- বিশেষ্য পদের দোষ, গুণ ইত্যাদি যে সকল শব্দ দ্বারা বোঝায় তাকে বিশেষণ পদ বলে। যেমন-মূর্খ, সুন্দর, রমণীয় ইত্যাদি।
সংস্কৃতে বিশেষ্যের যে লিঙ্গ, যে বচন ও যে বিভক্তি হয় বিশেষণেরও সেই লিঙ্গ, সেই বচন এবং সেই বিভক্তি হবে-
"বিশেষ্যস্য হি যল্লিঙ্গং বিভক্তিবচনে চ যে।
তানি সর্বাণি যোজ্যানি বিশেষণপদেষ্বপি।।"
যথা-পুরাতনং পুস্তকম্, পুরাতনে পুস্তকে, পুরাতনানি পুস্তকানি।
৩) সর্বনাম- বিশেষ্যের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয় তাকে সর্বনাম পদ বলা হয়, যেমন- অস্মদ্(আমি),যুষ্মদ্(তুমি), তদ্(সে)ইত্যাদি।
৪) অব্যয়- যে শব্দগুলি সকল লিঙ্গ, সকল বিভক্তি ও সকল বচনে একরকম থাকে, কোনো পরিবর্তন হয় না, সেগুলিকে অব্যয় পদ বলে। যথা- প্রাতঃ, দিবা, সম্যক্, নক্তম্, সায়ম্ ইত্যাদি।
"সদৃশং ত্রিষু লিঙ্গেষু সর্বাসু চ বিভক্তিষু।
বচনেষু চ সর্বেষু যন্ন ব্যেতি তদব্যয়ম্।।"

(# যন্ন =যৎ+ন  ব্যেতি= বি+এতি=বিবিধতাং প্রাপ্ণোতি।)

এ প্রসঙ্গে মনে রাখা দরকার যে, অব্যয়ের বিশেষণ ক্লীবলিঙ্গ হয়, যথা- প্রাতঃ(সকাল)-এই অব্যয়ের বিশেষণ ক্লীবলিঙ্গে রমণীয়ম্ হবে অর্থাৎ রমণীয়ম্ প্রাতঃ(সুন্দর সকাল) –এরূপ প্রয়োগ হয়।

৫) ক্রিয়াপদ- যে পদের দ্বারা কোনো কিছু করা, হওয়া ইত্যাদি বোঝায় তাকে ক্রিয়াপদ বলে। যেমন-গচ্ছতি(যাচ্ছে), ধাবতি(দৌড়াচ্ছে) ইত্যাদি ক্রিয়াপদ। 


সহায়ক গ্রন্থসমূহ-
Helps to the Study of Sanskrit-জানকীনাথ শাস্ত্রী।
সমগ্র ব্যাকরণ কৌমুদী-হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
পাণিনীয়ম্-লাহিড়ী-শাস্ত্রী।
পাণিনীয় শব্দশাস্ত্র-সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী।
ব্যাকরণ কণিকা-স্বামী অমলানন্দ, উদ্বোধন কার্যালয়।
 


প্রশ্নপত্র (Question Paper):  https://forms.gle/85arEmn1syk9ibrF9

No comments:

Post a Comment