Saturday, April 4, 2020

সমর্থঃ পদবিধিঃ (২-১-১)

"সমর্থঃ পদবিধিঃ" (২-১-১) সূত্রটি পরিভাষা সূত্র বলে পরিগণিত। সূত্রস্থ 'পদবিধিঃ' শব্দের অর্থ প্রসঙ্গে দীক্ষিত বলেছেন-'পদসম্বন্ধী যো বিধিঃ..' অর্থাৎ পদ বা পদসমূহকে অবলম্বন করে ব্যাকরণের যে সকল বিধি প্রযুক্ত হয় তাকে 'পদবিধি' বলে। বস্তুতঃ 'পদবিধি' হল 'বৃত্তি'। সমাসের ক্ষেত্রে 'পদবিধি' বলতে দুই বা বহুপদসংক্রান্ত বিধিকেই বোঝায়।

সূত্রস্থ 'সমর্থঃ' পদটি 'লাক্ষণিক' অর্থে গৃহীত বলে ব্যাখ্যাকারগণ স্বীকার করেছেন। 'লাক্ষণিক' অর্থ হল-সমর্থাশ্রিত বা সামর্থ্য।

সমাসপ্রকরণে এই সামর্থ্য দুই প্রকার-১) ব্যপেক্ষালক্ষণ সামর্থ্য। 
  
২) একার্থীভাবলক্ষণ সামর্থ্য।

১) ব্যপেক্ষালক্ষণ সামর্থ্য ঃ- বিশিষ্টা অপেক্ষা ব্যপেক্ষা। নিজ নিজ অর্থবোধে পরিসমাপ্ত একাধিক পদের আকাঙ্ক্ষা(পরস্পর নির্ভরতা), যোগ্যতা(পরস্পর সম্বন্ধবোধে বাধাহীনতা) এবং আসত্তি (নৈকট্য) -বশতঃ যে সম্বন্ধ ঘটে থাকে, তাকে ব্যপেক্ষালক্ষণ সামর্থ্য বলে।
যেমন-'রাজ্ঞঃ পুরুষঃ'-এখানে 'রাজ্ঞঃ'- এই ষষ্ঠ্যন্ত পদের সঙ্গে 'পুরুষঃ'-এই প্রথমান্ত পদটি স্ব-স্বামী (প্রভু-ভৃত্য) ভাব সম্বন্ধযুক্ত। 'রাজ্ঞঃ' বললেই আকাঙ্ক্ষা জাগে 'রাজার কী?' উত্তর- পুরুষ বা কর্মচারী। ঐ বাক্যে 'পুরুষঃ'-এই দ্বিতীয় পদটি উচ্চারিত হওয়া মাত্র পুনরায় আকাঙ্ক্ষা জাগে 'কর্মচারী কার?' উত্তর- রাজার, আর কারও নয়।

২) একার্থীভাবলক্ষণ সামর্থ্য ঃ- দ্বিতীয়প্রকার সামর্থ্য হল 'রাজপুরুষঃ' প্রভৃতি সমাসবদ্ধ পদ। 'রাজ্ঞঃ পুরুষঃ' ইত্যাদি বিগ্রহবাক্যে যে পদগুলি পরস্পর পৃথক্ অর্থে প্রযুক্ত ছিল তারাই বর্তমানে একার্থীভাবে পরিণত হয়ে সম্মিলিত অর্থ প্রকাশ করল। অত এব 'একার্থীভাব' বলতে সেই শক্তিকেই বোঝায় যার দ্বারা ব্যপেক্ষাসম্বন্ধযুক্ত পদসমূহ মিলিত হয়ে একটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে। 'রাজ্ঞঃ' ও 'পুরুষঃ' ভিন্ন বিভক্তিযুক্ত এই দুটি পদের পৃথগর্থ আর রহিল না। হরিকারিকায় বলা হয়েছে-
"বহূনাং বৃত্তিধর্মানাং বচনৈরেব সাধনে।
স্যান্মহদ্-গৌরবং তস্মাদেকার্থীভাব আস্থিতঃ।।"
অর্থাৎ সমাসাদি বৃত্তির দ্বারা সাধক অর্থে সমগ্ররূপে বাক্যে প্রকাশ করতে গেলে গৌরব ঘটে অর্থাৎ অনেক কথা বলতে হয়।  সেজন্যই একার্থীভাবের আশ্রয় নেওয়া হয়।

No comments:

Post a Comment